৩১ মার্চ নতুন করে তরঙ্গ নিলামে যাচ্ছে বিটিআরসি
পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাকে আলিঙ্গন করতে আগামী ৩১ মার্চ নতুন করে তরঙ্গ নিলাম করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। তবে এই নিলাম যতটা না ৫জি’র তার চেয়ে ঢের বেশি কাজে লাগবে টেলিকম সেবার মান উন্নয়নে। অপারেটরগুলো যে তরঙ্গ সঙ্কটে রয়েছে তা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তার মতে, এরই মধ্যে তরঙ্গ মূল্য ও বেস প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে। নিলামে বেশ কিছু ফ্লাক্সিবিলিটি দেয়া হয়েছে। আমরা আসলে এখন যে স্পেকট্রাম নিলাম করছি তার অসাধারণ একটা সুবিধা আছে। এতে টেক নিউট্রালিটি দেয়ায় ৪জি ও ৫জি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে হবে। এইরকম ফ্লেক্সিবিলিটি প্লাস ছয় মাস রোল আউটের টাইম দিচ্ছি। একটার বদলে ৯টা কিস্তি। এটা আগের তুলনায় অনেক অনেক বেশি সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমরা ৫জিকে টার্গেট করছি। কিন্তু এটা শুধু ৫জির জন্য না। ৫জি, ৪জি দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবে।
এবারে ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অকশন-২০২২’ নামে ইচ্ছাকৃতভাবেই সরকার ডেডিকেটেডলি ৫জি তরঙ্গ নিলাম হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই নিলাম টুজি, থ্রিজি বা ফোরজি এমনকি ৫জি’র পথকেও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তারা কোয়ালিটি অব সার্ভিস যদি নিশ্চিত না করে তাহলে কাস্টমার ধরে রাখা সম্ভব হবে। আমরা শুধু ৫জি’র ব্লকে যাচ্ছি না। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ডেডিকেটেডলি ৫জিতে যাইনি। ৫জির কাস্টমার তৈরি হতে হতে অথবা অ্যাপ্লিকেশনগুলো তৈরি হতে হতে একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা মাথায় রেছে আমরা এই সময়টা নির্ধারণ করেছি। যাতে তাদের বিদ্যমান কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে পারে। যদি চায় ৫জিতেও গুরুত্ব দিতে পারবে।
নিলামে প্রতি মেগাহাটর্জ স্পেকট্রামের ফ্লোর প্রাইস বা বেইজ প্রাইস থাকছে ৬ মিলিয়ন ডলার, টাকার হিসাবে যা ৫১ কোটি ৯০ লাখের একটু বেশি। এতে স্পেকট্রাম ক্রয়কারীদের জন্য ফাইভজি সেবা চালু করতে ৬ মাসের তরঙ্গ রোলআউট অবলিগেশন দেয়া হয়েছে। নিলামের দিন হতে এই সময় ধরা হবে।
মোট ১৮ ব্লকে হবে স্পেকট্রাম নিলাম। এরমধ্যে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্টজ বা ২৩০০-২৪০০ মেগাহার্টজে ৬টি ব্লক এবং ২ দশমিক ৬ গিগাহার্টজে বা ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজে ১২ টি ব্লক রয়েছে। ২৩০০-২৪০০ মেগাহার্টজে প্রতি ব্লকে ১০ মেগাহার্টজ করে স্পেকট্রাম নিলাম হবে। ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজেও প্রতি ব্লকে ১০ মেগাহার্টজ করে স্পেকট্রাম উঠবে।
নিলামে ‘বিড আর্নেস্ট মানি রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকা । যা অপারেটরগুলোকে জমা দিতে হবে ২৩ মার্চের মধ্যে। এছাড়া স্পেকট্রাম ক্রয়মূল্যের ১০ শতাংশ অর্থ নিলামের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিন হতে ৬০ দিনের মধ্যে দিতে হবে ক্রেতাকে। আর অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ অর্থ ৯ বছরে সমান কিস্তিতে দেয়া যাবে।নিলাম নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে ৮ মার্চের মধ্যে অপারেটরগুলোকে জানাতে হবে। নিলাম নিয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক হবে ১০ মার্চ।
নিলাম নিয়ে অপারেটরদের আপত্তির প্রশ্নে মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিলামের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত এক তরফা নেইনি। ওদের যে বিষয়গুলো ছিলো সেগুলো আমরা কেবল কনসিডারই করিনি, তারা যেনো কোনো রকম অসুবিধায় না পরে তা নিশ্চিত করেছি। আমরা রবি আজিয়েটার সিইও, টেলিনরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা যখন ওদের কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি; ওরা বরং গাইডলাইনের জন্য আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। আমার কাছে মনে হয় তাদের আপত্তি করার কিছু থাকবে না।
বিটিআরসি বলছে, ১৪ মার্চের মধ্যে নিলামে অংশগ্রহণের আবেদন জমা দিতে হবে এবং যোগ্য অংশগ্রহণকারীর তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ মার্চ। নিলাম পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন নিয়ে আলোচনা ২১ মার্চ।